Saturday, April 29, 2023

জাদু ও নজর লাগা থেকে হিফাজতে থাকার আমল:---

 




বদনজর বা চোখ লাগার লক্ষণ।


[১] শরীরের সাধারণ দুর্বলতা থাকা, ক্ষুধা হ্রাস এবং বমি বমি ভাব লাগা।

[২]চেহারাতে ফ্যাকাশে ফিতে/ধূসর / হলুদ হয়ে যাওয়া।

[৩] ক্ষুধামন্দা, খাবারে অরুচি।

[৪]স্থায়ীভাবে / প্রায় সময় উচ্চ শারীরিক তাপমাত্রা/ জ্বর থাকা [ কিন্তু থার্মোমিটারে না উঠা]

[৫]কোন কারণ ছাড়াই কান্নাকাটি করা /  আশ্বাস হওয়া।

[৬]কনস্ট্যান্ট জাগ্রত (ঘুমিয়ে আছেন কিন্তু মনে হচ্ছে জাগ্রত)

[৭]উভয় হাত এবং পায়ের মধ্যে প্রায়ই ব্যথা, শরীরের ব্যথা আবর্তিত, শরীরের ব্যথা এক জায়গায় স্থির না হওয়া।

[৮]প্রায় সময় মাথাব্যাথা করা 

[৯] বিভিন্ন অসুখ লেগেই থাকা, অনেক চিকিৎসার পরেও ভালো না হওয়া (ঠান্ডা,সর্দিকাশি, জ্বর,  মাথাব্যথা ইত্যাদি )

[১০] পঞ্চমুখী মমুলাট,( কাজে মন না বসা, লেখাপড়া মন না বসা, নামাজ, যিকিরে মন না বসা)

[১১] মহিলাদের/পুরুষদের অত্যধিক চুল পড়া (যা শ্যাম্পু ব্যবহার করেও কাজ হয়না)

[১২] আত্মীয়, বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে দেখা করতে অপছন্দ লাগা।

[১৩]ব্যবসা, কাজ বা পেশায় বিঘ্ন এবং ক্ষতি, ঝামেলা লেগে থাকা।

[১৪] বুকে ধড়ফড়  করা, দমবন্ধ বা অসস্তি লাগা।

[১৫] পেটে প্রচুর গ্যাস হওয়া/ জমে থাকা।

[১৬] মেজাজ খিটখিটে থাকা, কোন কারণ ছাড়াই  রেগে যাওয়া।

[১৭]অহেতুক মেজাজ বিগড়ে থাকা ।

[১৮]একটি প্রাথমিক / বিশেষজ্ঞ কাজ সম্পাদন করতে অক্ষম হওয়া। 

[১৯] প্রাথমিক/যে কাজে অভিজ্ঞ তা করতে গেলেই অত্যন্ত অলস অথবা অসুস্থ হয়ে পড়া।

[২০]স্বপ্নে উঁচু থেকে পড়ে যেতে দেখা, মৃত মানুষ দেখা। অথবা স্বপ্নে কাউকে মরে যেতে দেখা।

১/

        জাদু ও নজর লাগা থেকে হিফাজতে থাকার আমল:---


আউযু বি ওয়াজ হিল্লাহিল আজি-মিল লাজি-লাইসা শাইউন আ-যমা মিনহু ওয়া বিকালিমা- তিল্লা-হিত তাম্মা-তিল লাতি-লা-ইউযা-ইযু হুন্না বাররুও ওয়ালা-ফা-যিরুও ওয়া বিআসমা---ইল্লা-হিল হুস না-কুল্লিহা-মা-আলিম তু মিনহা-ওয়ামা-লাম আ-লাম মিন শাররিমা-খলাকো ওয়া বারো আ ওয়া যারো আ।(দুয়াই কাব)..
১/   দুয়া কাব-/-কাব রাঃ হয়তে বর্নিত যে আমি যদি এই দুয়া না পড়তাম তাহলে জাদুগর আমাকে গাধা,খচর, কুকুর বানিয়ে দিত।
      এই দুয়া প্রতিদিন বেশি বেশি করে পড়লে যে জাদু করেছে তার দিকে ফিরে যাবে।
২/৬৮ নং সূরা কলম,আয়াত ৫১-৫২ এই আয়াত দুটি পাঠ করলে নজর লাগা ও জাদু করা থেকে হিফাজত থাকবে এবং যে জাদু করবে, সেই জাদু তার দিকে ফিরে যাবে। এই আয়াত ৩,৫,৭ বার পাঠ করতে হবে।
৩/    সূরা কাহাফ ৩৯ আয়াত বিসমিল্লাহি মা- শা- আল্লাহু লা-কুওয়াতা ইল্লাহবিল্লাহ ।
যে ব্যক্তি আয়নায় মুখ দেখার সময়, কোন জিনিস দেখার সময় এই দুয়া পাঠ করলে নজর লাগা থেকে বেঁচে থাকবে। যে নজর লাগায় তার দিকে ফিরে যায় এই দুয়া পাঠ করলে।(১-৩/@৫৩৩).
৪/    বদনজর থেকে হিফাজত থাকার জন্য নিম্নে বর্নিত দোয়া পরা চাই।----
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি
শাইতোনিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অর্থ---আমি তোমার জন্য শয়তান, কষ্টদায়ক পশু, এবং বদনজর থেকে হিফাজত থাকার জন্য আল্লাহর আশ্রয় গ্ৰহন করছি।
হুজুর সাঃ এই দুয়া পাঠ করে হাসান ও হোসেনের উপর পড়ে দম করতেন। নজর লাগা থেকে, হিংসুকের হিংসা থেকে, এবং ও ক্ষতরনাক জীবজন্তু থেকে হিফাজত করবে।(@৫৩৫)..
২৫/৩৬. মহানবী ﷺ যে দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে।
‏"‏ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ ‏"‏ ‏
৬/৩৫২৫। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন (রাঃ) কে ঝাড়ফুঁক করে বলতেনঃ ‘‘আউযু বিকালিমা তিল্লাহি তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আয়নিল লাম্মাতিন’’ (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যাবলীর উসীলায় প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। তিনি বলতেনঃ আমাদের পিতা ইবরাহীম (আ) ইসমাঈল ও ইসহাক (আ) -কে এই দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করতেন অথবা রাবী বলেছেন, ইসমাঈল ও ইয়াকূব (আ)-কে ঝাড়ফুঁক করতেন। শেষোক্ত বর্ণনা ওয়াকী (রাঃ)-এর।(সহীহুল বুখারী ৩৩৭১, তিরমিযী ২০৬০, আবূ দাউদ ৪৭৩৭, আহমাদ ২৪৩০)।

৫/   যে ব্যক্তি ঘুমানোর থেকে উঠে কলেমা পড়ার পর আউযুবিল্লাহ ----বিসমিল্লাহ---- লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ১১ বার পাঠ করে, সেদিন যাদু ও জিন্নাতের নজর লাগা, হিংসুকের হিংসা থেকে হিফাজত, কোন কাজে সফল না হওয়া,,ওদিন ভালো কাটে, সারাদিন সমস্ত রকমের দুঃখ,বালামসিবদ  থেকে হিফাজত থাকবে, সপ্তাহে গুনাহ মাফ হবে।(@৫৩৫)..